ব্রণ দূর করার সহজ উপায়: কারণ, যত্ন ও চিকিৎসা
মুখে হঠাৎ দু-একটি ব্রণ দেখা দিলে খুব একটা চিন্তা হয় না। কিন্তু সেই ব্রণ যখন একের পর এক উঠতে থাকে, তখন বিরক্তির শেষ থাকে না। বিশেষ করে মুখের গাল, কপাল কিংবা থুতনিতে ব্রণ হলে অনেকেই অস্বস্তিতে ভোগেন। কেউ দামি প্রসাধনী ব্যবহার করেন, আবার কেউ ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণ কমানোর চেষ্টা করেন। তবে ব্রণ দূর করতে হলে আগে বুঝতে হবে, কেন এটি হচ্ছে এবং ত্বকের যত্নে কোথায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
ব্রণ রাতারাতি দূর করার কোনো জাদুকরী উপায় নেই। তবে নিয়মিত ত্বকের যত্ন, সঠিক খাবার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করলে ব্রণের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মুখে ব্রণ হওয়ার কারণ কী?
আমাদের ত্বকের নিচে থাকা তৈলগ্রন্থি থেকে প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম বের হয়। কখনো অতিরিক্ত তেল, মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়া মিলে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। তখন মুখে ব্রণ দেখা দিতে পারে।
বিভিন্ন কারণে ব্রণ হতে পারে। যেমন:
- বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের পরিবর্তন।
- ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে থাকা।
- অপরিষ্কার হাতে বারবার মুখ স্পর্শ করা।
- মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব।
- ত্বকের সঙ্গে মানানসই নয় এমন প্রসাধনী ব্যবহার।
- কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মিষ্টি বা উচ্চ গ্লাইসেমিক খাবার খাওয়া।
ব্রণ দূর করার সহজ উপায়
ব্রণ কমাতে খুব বেশি প্রসাধনী ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। বরং ত্বকের ধরন বুঝে কয়েকটি অভ্যাস গড়ে তুললে ভালো ফল পাওয়া যায়।
১. নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করুন
সারাদিনে মুখে ধুলাবালি, ঘাম ও অতিরিক্ত তেল জমে। এগুলো ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই দিনে দুইবার মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। মুখ ধোয়ার সময় খুব বেশি ঘষাঘষি করবেন না। এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে।
২. ব্রণ খুঁটবেন না
অনেকেরই ব্রণ উঠলে হাত দিয়ে চেপে ফাটানোর অভ্যাস রয়েছে। এতে সাময়িকভাবে ব্রণ ছোট মনে হলেও ত্বকে প্রদাহ বাড়তে পারে। পরবর্তী সময়ে ব্রণের দাগ কিংবা গর্ত তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই ব্রণ যতই বিরক্তিকর হোক, সেটি খোঁচানো থেকে বিরত থাকুন।
৩. ত্বকের জন্য সঠিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
মুখে ব্রণ হলে অনেকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ করে দেন। কিন্তু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখাও জরুরি। তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য নন-কমেডোজেনিক (যা লোমকূপ বন্ধ করার প্রবণতা কম) ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে পারেন।
৪. স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ব্যবহার করতে পারেন
ব্রণপ্রবণ ত্বকের যত্নে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বেশ পরিচিত একটি উপাদান। এটি লোমকূপের ভেতরে জমে থাকা তেল ও মৃত কোষ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তবে প্রথমেই বেশি মাত্রার পণ্য ব্যবহার করবেন না। অল্প পরিমাণে শুরু করুন এবং ত্বকে জ্বালাপোড়া হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। তবে শুধু বেশি পানি খেলেই ব্রণ চলে যাবে, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। পাশাপাশি সুষম খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৬. রোদ থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখুন
রোদে বের হলে ত্বকে ব্রণের দাগ আরও গাঢ় হয়ে যেতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার নন-কমেডোজেনিক সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী আবার লাগান।
ঘরোয়া উপায়ে কি ব্রণ দূর করা যায়?
ব্রণ কমানোর জন্য অনেকেই মুখে লেবুর রস, টুথপেস্ট, বেকিং সোডা কিংবা হলুদ ব্যবহার করেন। কিন্তু এসব উপাদান সবার ত্বকের জন্য নিরাপদ নয়। বিশেষ করে লেবুর রস ও বেকিং সোডা ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।
ঘরোয়া পদ্ধতির নামে এমন কিছু ব্যবহার করা ঠিক নয়, যা ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা নষ্ট করে। এর পরিবর্তে মৃদু ফেসওয়াশ, উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই ভালো।
ব্রণ হলে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন?
খাবারের সঙ্গে ব্রণের সম্পর্ক ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। কিছু গবেষণায় উচ্চ গ্লাইসেমিক খাবার এবং কিছু দুগ্ধজাত খাবারের সঙ্গে ব্রণের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে সব খাবার সবার ক্ষেত্রে একই প্রভাব ফেলে না।
ব্রণের সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত মিষ্টি, কোমল পানীয় এবং বেশি চিনি দেওয়া খাবার কমিয়ে দেখতে পারেন। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ডাল ও পুষ্টিকর খাবার রাখুন।
ব্রণের সমস্যা বেশি হলে কী করবেন?
মুখে অল্প ব্রণ হলে সাধারণ যত্নে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ব্রণ যদি বড়, লাল, ব্যথাযুক্ত বা পুঁজযুক্ত হয়, তাহলে অবহেলা করা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ব্রণ থাকলে স্থায়ী দাগও তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের সমস্যায় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী বেনজয়েল পারঅক্সাইড, অ্যাডাপালিন কিংবা অন্য চিকিৎসা দিতে পারেন। গর্ভাবস্থায় বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে নিজে থেকে ব্রণের ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
আরও পড়ুন
- চুল পড়া বন্ধ করার উপায়: কারণ, যত্ন ও কখন ডাক্তার দেখাবেনসৌন্দর্য ও ত্বকের যত্ন
- ইসলামিক নাম মেয়েদের: অর্থসহ আধুনিক মেয়েদের নামসন্তান প্রতিপালন
- আমাদের ছোট নদীকবিতা ও গল্প
- আয়াতুল কুরসি বাংলা: আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলতদোয়া ও আমল
- তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ও নিয়ত: পড়ার সময়, রাকাত ও ফজিলতনামাজ, রোজা ও ইবাদত
০ টি মন্তব্য
এখনো কেউ মন্তব্য করেননি। লেখাটা কেমন লাগল, জানিয়ে দিন।
মন্তব্য করতে লগইন করুন, অ্যাকাউন্ট না থাকলে নতুন একটা খুলে নিন।